এই দেশ এই মাটি pdf download

0
332
এই দেশ এই মাটি pdf download

বাংলাদেশর স্থপতি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শুধু একজন জাতীয় নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন ইতিহাসের মহানায়ক । ২০০৪ সালে বিবিসি-র এক বিশ্বজরিপ তাকে এদেশের সর্বকালের সর্বশষ্ঠ বাঙালি বলে ঘোষণা দেয়। তাকে নিয়ে লেখার এত ছড়াছড়ি নিতান্তই স্বাভাবিক । তার জীবন ও কর্ম নিয়ে বাংলা একাডেমী এবারই একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ দুই খণ্ডে প্রকাশ করেছে । আমি নিজেও সংবাদপত্রের কলামে এবং বিস্তর সংকলনে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক প্রবন্ধ লিখেছি । ২০০১ সালে প্রকাশিত আমার একটি বই ‘মহাপুরুষদের কথা : কাছে থেকে দেখা’র প্রায় অর্ধেকটিই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা।

এই বইটির বিশেষত হলো যে, বইটি মূলতঃ বঙ্গবন্থুরই লেখা ও কথার একটি সংকলন । সম্পাদনা পরিষদ শুধু এগুলো একত্র করেছেন এবং অতিরিক্ত কিছু তথা ও লেখা তাতে সংযোজন করেছেন । বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের ধ্যানধারণার সমাকচিত্র এই বইতে পাশয়া যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। পাঠকের হাতে “এই দেশ এই মাটি” তুলে দিতে পেরে আমরা ধনা এবং গর্বিত বটে । বাক্তিগত কৈফিয়ত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে প্রথম আমি দেখি ১৯৪৭ সালের জুন মাসে । তিনি তখন আমার জেলা নিলেটে দেশ বিভাগের সময় যে গণভোট হয় তাতে পাকিস্তানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে গিয়েছিলেন। তিনি তখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, ইসলামিয়া কলেজের (বর্তমানে আবুল কালাম আজাদ কলেজ) ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক, বাংলা মুসলিম ছাত্র লীগের অনাতম নেতা এবং গোলাপগঞ্জ মুসলিম লীগের একজন বিশেষ নেতা । অতপর, ১৯৫১ সালে আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে ঢাকায় আসি তখন তিনি একজন জাতীয় নেতায় পরিণত হয়েছেন এবং সেই সময়টিতে কারাগারে বন্দি ছিলেন। ১৯৪৯ সালে ২৩ জুন যখন আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় তখন তিনি হন এর যুগ সম্পাদক । ১৯৫৩ সালের আওয়ামী মুসলিম লীগ কাউন্সিলে তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

আমার পাচ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ১৯৫১-৫৬ সালে (অতিরিক্ত এক বছর আইন অধ্যয়নে) ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে তার সঙ্গে যথেষ্ট যোগাযোগ ছিল। জাতীয় রাজনীতির পুরোভাগে থাকলেও তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগের পৃষ্ঠপোষকও ৷ আমি ছাত্র লীগে না থাকা সত্বেও তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ এবং তার বাসস্থানেও আমার বেশ আনাগোনা ছিল। ১৯৫৬ সালে আমি সরকারি চাকরি করতে শুরু করি । তীর সঙ্গে পরিচয় নবায়িত হয় যখন তিনি ছিলেন পূর্ববাংলার আওয়ামী লীগ মন্ত্রিসভায় একজন মন্ত্রী । ‘৫০-এর দশকের শেষ দিকে যখন সামরিক শাসনের অধীনে দেশে রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল তখন তার সঙ্গে নিয়মিত দেখা হতো ঢাকার ফুটবল খেলার মাঠে ।

সামরিক শাসনের নানা বিধিনিষেধ, অবদমন এবং নির্যাতন অতিক্রম করে ১৯৬৪ সালের মার মাসে শেখ মুজিব আওয়ামী লীগকে পুনরজ্জ্রীবিত করেন । ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ছুয়-দফা কার্যক্রম ঘোষণা করেন। লেই বছর মার্চ মাসে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন । ছয়-দফা আন্দোলনের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকলে মে মাসে তিনি কারাগারে নিক্ষিপ্তহন। ১৯৬৮ সালে তিনি আগরতলা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে বিচারের সম্মুখীন হন। ১৯৬৮ সালের শেষলগ্ে দেশে মারাত্মক রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয় এবং এই সংকট সমাধানের জন্য তদানিস্তন রাষ্ট্রপতি ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান একটি জাতীয় গোলটেবিল বৈঠক আহ্বান করেন । ১৯৬৯ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে এই গোলটেবিল বৈঠকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং দলগুলোকে সমবেত করার লক্ষে; আগরতলা ঘড়মন্ত্র মামলা খারিজ করে দেওয়া হয় এবং বঙ্গবন্ধুকে এই বৈঠকে যোগদান করার জন্য বাবস্থা নেওয়া হয় । ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে এই গোলটেবিল বৈঠক ব্লাগুয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত হয় । এতে পূর্ব পাকিস্তানের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু যোগ দেন। এই গোলটেবিল বৈঠকে পূর্ব পাকিস্তানের নেতৃবর্গের দেখাশোনা করার দায়িত্ব আমার উপর ন্যস্ত হয় এবং বজবন্ধুকে খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ তখন হয়। ১৯৬৯ সালের মাঝামাঝি আমি পাকিস্তানের দূতাবাসে নিযুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনে চলে যাই । ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরুঃ হলে জুন মাসের ৩০ তারিখে আমি পাকিস্তান দূতাবাস পরিত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগতা প্রকাশ করি । এই আনুগতা ছিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহযানের প্রতি । ১৯৭২-৭৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ আমলা হিসেবে বান্তবেই বঙ্গবন্ধুকে পাই সরকার প্রধান বূপে। ১৯৭২ সালের ফেকুয়ারি থেকে শ্রপ্রিল পর্যস্ত আমি নান! কাজ্জে ঢাকায় ছিলাম এবং বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে কতিপয় গুরুতুপ্র্ণ কাজে নিযুক্ত থাকি । এইসব কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল জেলায় জেলায় প্রতিনিধিত্বশীল স্বশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন এবং যুদ্ধোত্তর পুনর্বাসনের জনা জাতিসংঘের জাইলার মিশনের দেখাশোনা । সোভিয়েত পরিকল্পনা মিশন এবং জাপানি ত্রাণ মিশনের সফরের সঙ্গেও আমি সম্পৃক্ত ছিলাম । ১৯৭২-৭৪ সাল পর্যন্ত আমি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে এবং কিছুদিন যুগপৎ্ভ্ডাবে বিশ্বব্যাধুকে কর্মরত ছিলাম । ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু যখন নিউইয়র্ক এবং ওয়াশিংটন সফরে যান তখন তার ভ্রমণসুচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে আমার ছিল একটি মুখ্য ভূমিকা । আমেরিকায় তার পুরো কার্যত্রমের সঙ্গে আমি ছিলাম গভীরভাবে সম্পৃক্ত । ১৯৭৪ সালের শেষলগ্নে আমি ম্যানিলায় যাই এশীয় উন্নয়ন ব্যাং বাংলাদেশ এবং ভারতের পক্ষ থেকে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে ।

 

১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত জাতি গঠনের এই ত্রান্তিকালে আমাকে প্রায়ই ঢাকা থাকতে হতো । বঙ্গবন্ধু সরকারের নির্দেশে আমাকে সে সখয় অর্থনৈতিক কুটনীতিতে নানাভাবে ব্যস্ত থাকতে হয়। ১৯৭৩ সালে উন্নয়ন সহযোশীদেক্র সঙ্গে দেনা নিয়ে আলোচনায় আমি বাংলাদেশ দলের একজন সদসা ছিলাম । ১৯৭৪ সালে ইসলামি ব্যাংকের প্রস্তুতি কমিটিতে আমাকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সদসা মনোনীত করা হয় এবং ১৯৭৫-এ এই প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী সম্মেলনে আমাকে অংশ নিতে হয়। ইসলামি রাষ্ট্রপুজের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সুচনাপর্ধে আমাকে পরপর দুইটি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে (১৯৭৪ ও ১৯৭৫) বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পেট্রল সহ্হের একটি উদ্যোগে ১৯৭৪ সালে আমাকে প্রতিনিধি হিলেবে প্রেরণ করা হয়! ১৯৭৪ এবং ১৯৭৫ সালে আমি সৌদি আরব যাই আমাদের কূটনৈতিক স্বীকৃতি ও পেন্্ল আমদানি বিষয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে । এবং সৌদি আরবকে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সাহাযা প্রদান ও বাংলাদেশ এইড গ্রঘপের সদস্য হওয়ার জনা আমি তদবির করি 1 ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয় আমাকে সেখানেও উপস্থিত থাকতে হয় এবং বিশেষ করে অবিভক্ত পাকিস্তানের সম্পদ বিভাজনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হয় । এইসব প্রত্যেকটি উাদ্যোগে বঙ্গবন্ধু সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন ।

১৯৭৫ সালের এপ্রিল মাসে তার সঙ্গে আমার সর্বশৈষ সাক্ষাৎ হয় যদিও জুলাই মাসেও তার সহকর্মী এবং অধিনন্ত আমলাদের সঙ্গে ঢাকায় আমার দেখা হয় । আমি মনে করি, তার মতো একজন কালজয়ী মহাপুরুবের শ্লেহধনা হওয়া এবং তীর একজন বিশ্বন্তজন হিনেবে তার জন্য কাজ করা ছিল আমার একটি অননা সৌভাগ্য ।

এই দেশ এই মাটি pdf download

Leave a Reply