কেমন হতে পারে গাযওয়াতুল হিন্দ? কি করব আমি? pdf

0
1846

সূচীপত্র
১. ভূমিকা
২. উম্মাহ একটি বিলুপ্ত চেতনা
৩. পট পরিচিতি
৪. গাজওয়াতুল হিন্দের মূল্যায়ন
৫. গাজওয়াতুল হিন্দ কখন হবে
৬. বিস্তৃতি ও সার্বজনীনতা
৭. যুদ্ধের সম্ভাব্য কারণসমূহ
৮. গাজওয়াতুল হিন্দ এখন আরও স্পষ্ট হয়ে গেছে
৯. গাজওয়াতুল হিন্দ মহাযুদ্ধেরই অংশ
১০. হিন্দুত্ববাদের ভারত
১১. পাকিস্তান রাষ্ট্রের অবস্থান ও ভূমিকা
১২. বাংলাদেশ পর্যালোচনা
১৩. হিন্দের যুদ্ধাবস্থা বিশ্লেষণ
১৪. সিরিয়ার পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন
১৫. ইমাম মাহদি ও দাজ্জালের আগমন কি খুব সন্নিকটে?
১৬. কি করব আমি?
১৭. উম্মাহর নারীদের করণীয়
১৮. ক্বাসীদায়ে শাহ নিয়ামত উল্লাহ

ভূ মকিা
বিতাড়িত শয়তানের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয়দাতা প্রতিপালক আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
দয়াময় মহামহিম আল্লাাহর নামে শুরু করছি। দুরুদ ও সালাম মুহাম্মাদ আরাবি (সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তার সত্যনিষ্ঠ অনুসারীদের ওপর।
গাজওয়াতুল হিন্দ কি, কার সাথে এই যুদ্ধ, কি হবে এর ফলাফল? হয়তো সবাই তা জানে। কিন্তু
কেমন হবে এই ভয়াবহ যুদ্ধটি, এই যুদ্ধের রূপরেখাই বা কি, কত দীর্ঘ হবে, মুজাহিদীনদের ভূমিকা
কি হবে, কারা কারা, কে কোন মতলবে – কাদের পক্ষে, কাদের বিপক্ষে যুদ্ধ করবে? এই প্রশ্নগুলোর
উত্তর সবার কাছে সতত স্বচ্ছ নয়। তারই উত্তর জেনে নিতে গাজওয়াতুল হিন্দের বিশ্লেষণ নিয়ে
আমাদের এই কলেবর। সাথে একজন একাকী ব্যক্তির জন্যে আমরা যুদ্ধের একটি ছক এঁকে দিব,
যা তাকে প্রস্তুত করবে গাজওয়াতুল হিন্দের জন্যে।
বাংলা ভাষায় ইতিপূর্বে এবং উপমহাদেশের অন্য কোন ভাষাতে গাজওয়াতুল হিন্দের এত বিস্তৃত
বিশ্লেষণ, আপডেট পর্যবেক্ষণ, পরিস্থিতির মূল্যায়ণ ও বাস্তবিক নির্দেশনা আছে বলে আমাদের
জানা নেই। গাজওয়াতুল হিন্দ নিয়ে আমাদের এই কাজটি তাই অবশ্যই আপনার গুরুত্বের দাবী
রাখে। কলেবর যাতে বড় হয়ে না যায়, সেজন্যে আমরা এখানে একটি অযথা কথারও জেনেশুনে
অনুপ্রবেশ ঘটাইনি। কিন্তু এটি শুধু গাজওয়াতুল হিন্দ নিয়ে হাদিস ও আছারের একটি প্রামাণ্য বইই নয়, বরং পুরো উপমহাদেশের সার্বিক পরিস্থিতির একটি প্রাসঙ্গিক পর্যালোচনাও। সে হিসেবে
শুধু নিত্যকার সংবাদগুলো থেকে কিছু সংবাদ তুলে ধরলেও বইটির কলেবর ধারণাতীত বৃদ্ধি পেত।
অথচ আল্লাহর শান, এমন বিস্তৃত একটা কাজ এত অল্প কলেবরেই শেষ করার তাওফিক দিয়েছেন।
তাছাড়া, হিন্দুস্তানের ভৌগলিক অবস্থান, ইসলামের আগমন, কালের প্রবাহে নানা ঘাত-প্রতিঘাত,
সংগ্রাম-সাধনা, হিন্দুত্ববাদ ও ইসলামের চির বৈরীতা নিয়েও অনেক কিছু লেখার ছিল। প্রাসঙ্গিক
তো বটেই। কিন্তু গাজওয়াতুল হিন্দকে মূল ফোকাসে রাখতে সে দিকেও কলম চালাইনি।
বইটি লেখার আগে থেকেই একটি উদ্দেশ্য ছিল- বইটিকে অন্তত এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাতে
গাজওয়াতুল হিন্দের ব্যাপারে মোটামুটি হলেও পূর্ণাঙ্গ একটা কাজ হয়। যে কেউ যেন এই একটি বই থেকেই গাজওয়া সংক্রান্ত সকল দিকের আনুষঙ্গিকতা স¤পর্কে ওয়াকিবহাল হতে পারে। আর
একটা নিয়ত যেটা সব কাজেই থাকে- তা হল দাঈ ভাইদের কথা চিন্তা করে করা। সুতরাং দাঈ
ভাইয়েরাও যেন একটি বই দিয়েই গাজওয়া সংক্রান্ত দাওয়াতের একটা পূর্ণাঙ্গ প্রচেষ্টা চালাতে পারে
সে প্রচেষ্টাও করা হয়েছে। তবে সময়, ইলমের দৈন্যতা, পরস্থিতির কারণে প্রয়োজনীয় তথ্যের
সংগ্রহ ও সংযোজনের ঘাটতির জন্যে কিছুটা হলেও অপূর্ণ মনে হতে পারে! আল্লাহর দিকেই রুজু
হচ্ছি।
বইটি লিখতে গিয়ে একটি অভিব্যক্তি বর্ণনা করি- যখন আমি এই বইটি লেখা শুরু করি, তখন
থেকে প্রতিনিয়তই উপমহাদেশীয় খবরাখবরের দিকে একটু বাড়তি গুরুত্বের সাথে নজর রাখতাম।
এবং প্রতিনিয়তই এমন সব ঘটনাপ্রবাহ, ঘাত-প্রতিঘাত ঘটে চলছিল এবং চলছে, প্রতি মূহুর্তেই
উপমহাদেশীয় যুদ্ধ তথা গাজওয়াতুল হিন্দের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হয়ে আসছে। এমনকি আমি লেখা
বন্ধ করে দিয়েছি, কখনো বা পেরেশান হয়েছি যে এত ঘটনা-দুর্ঘটনা যা হিন্দু-মুসলিমের চূড়ান্ত
যুদ্ধের দিকে বাঁক নিচ্ছে- এ সকল ইদানীন্তন তথ্য-বিশ্লেষণ যোগ করলে বইটি নির্ঘাত হাজার পৃষ্ঠা
অতিক্রম করত। এর মাঝে শ্রীলংকায় মাসজিদ পুড়িয়ে দেওয়া, আসাম-কর্ণাটকের লক্ষ মুসলিমের
নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া, কাশ্মিরের ৮ বছরের মেয়ে আসিফাকে মন্দিরে বন্দী রেখে ধর্ষণ-হত্যার
ঘটনা অন্যতম বটেই। এর বাইরেও খবর আছে। ভয়ের, আশঙ্কার সে খবর।
আমরা সে দিকেও যাইনি। মূল বিষয়েই থেকেছি। ভাসাভাসা ভাবে জরুরী কথাগুলো বলার চেষ্টা
করেছি। যেগুলোর সামান্য বিশ্লেষণও একেকটি স্বতন্ত্র বইয়ের রূপ নিবে! তাই বিস্তৃত পরিমন্ডলে
যাইনি। যাওয়ার দরকারও নেই। সাগর যখন বাস্তবেই প্রবাহমান তখন দু’ফোঁটা পানি ছিটিয়ে তার
সত্যতা প্রমাণের কি প্রয়োজন! অন্ধরা চিরকালই অন্ধ থাকে। আর ঘুমন্তরা তো মৃতদের মতোই।
গাজওয়াতুল হিন্দ নিয়ে আমাদের প্রচেষ্টা তাই চক্ষুষ্মান ও জাগ্রতদের প্রতি। তবে কামনা করি সব
অন্ধত্ব ঘুচিয়ে যাক, মৃতরা জেগে ওঠুক।
গাজওয়াতুল হিন্দ বা হিন্দুস্তানের যুদ্ধ-জিহাদের সাথে অনুচ্চস্বরে ঈমান ও তাওহীদ, ত্বগুত ও শির্ক,
আল ওয়ালা ওয়াল বারা’আর বিষয়টিও গুঞ্জরিত হয়। কিন্তু ঈমান, ওয়ালা বারা’আ, ত্বগুত নিয়ে
আলোচনা করলে আবার মূল প্রসঙ্গের আবেদন ম্লান হওয়ার আশঙ্কা। আলোচনাও অনেকটা নিরস
হবে! আবার এগুলোকে অস্বীকারও করা যায়না! গাজওয়াতুল হিন্দের প্রেক্ষাপটে এগুলো অতি
জরুরী নিয়ামক।
আল্লাহর শোকর, “উম্মাহ; একটি বিলুপ্ত চেতনা” নামে একটা দার্শনিক মূল্যায়ননির্ভর প্রাবন্ধিক
আলোচনা দিয়ে প্রকারান্তরে উম্মাহ, ঈমান, কুফর, ত্বগুত, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ওয়ালা
বারা’আসহ প্রায় সকল বিষয়েরই মুখরোচক আলোকপাত করা হয়ে গেছে! সাথে গাজওয়াতুল
হিন্দের সাথে ব্যালেন্সটাও অক্ষত রয়ে গেল। বইটি পড়তে গিয়ে অনুধাবন করবেন- এর বিষয়বস্তুর অধিকাংশজুড়ে আছে পরিস্থিতির বিশ্লেষণ
ও মূল্যায়ন। তাই আমরা বিভিন্ন সোর্স ও খাতের দ্বারস্থ হয়েছি। আবার প্রাসঙ্গিক হিসেবে অনেকের
বক্তব্য, আর্টিক্যাল-প্রবন্ধের অংশবিশেষ বা অনেক কিছুই আমরা এখানে যুক্ত করেছি। বইটি পড়তে
গিয়ে কেউ হয়তো দেখবে তারই লেখা আর্টিক্যাল বা নোটের পুরো বা আংশিক অংশ এখানে যুক্ত
করা হয়েছে! যেমন বইয়ের মাঝে “জাতীয়তাবাদ” বা “নারীদের করণীয়” শিরোনামের ক্ষেত্রে
হয়েছে। দ্বীনের জন্যে যারাই যা কিছু করি তা তো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যেই। তাই এমন একটি
প্রচেষ্টায় আপনাদের কোন মেহনত থেকে যদি আমরা উপকৃত হই তবে অবশ্যই আশা রাখি
আপনারা আনন্দিত হওয়া বৈ নারাজ হবেননা! এক্ষেত্রে আল্লাহ সবাইকে উত্তম জাযা দিন এবং
উম্মাহর একটি গুরুত্ত্বপূর্ণ কাজে নিজেদের মেহনতের ফসল যুক্ত হওয়াতেও শুকরিয়া করা উচিত!
আলহামদুলিল্লাহ্!
আরেকটি কথা। একদম গতানুগতিকতা পছন্দ হয়না। তাই ভূমিকা বা লেখকের কথা কোন কিছুই
লেখার ইচ্ছা ছিলনা, নেইও। তবুও লিখে ফেললাম। কেন, আচ্ছা সেটা এখন থাক! আর এমন
ভাবেই লেখার চেষ্টা করেছি, আলাদা করে ভূমিকা দিতে হয়না। বইয়ের শুরুটাই বইয়ের ভূমিকা,
পরিচয়। আর সারাটা জুড়েই ভূমিকার ছড়াছড়ি, আর তার সম্প্রসারণে মাখামাখি!
গাজওয়াতুল হিন্দের সাথে প্রাসঙ্গিক হওয়ায় অধিক বিস্তৃত ও গভীর গবেষণার বিষয় হওয়া স্বত্ত্বেও
অল্প কয়েক কথায় ঈমাম মাহদী, দাজ্জাল ও আখেরুজ্জামান নিয়ে একেবারে শেষ দিকে
আলোকপাত করা হয়েছে। তাই…
পড়া হোক। প্রচার হোক। হোক প্রসার! আল্লাহ আমাদের নারী-পুরুষ শিশু-কিশোর প্রতিজনকে
ঈমানবিল্লাহ ও কুফর বিতত্বগুতের মাধ্যমে গাজওয়াতুল হিন্দের জন্যে প্রস্তুত হওয়ার তাওফিক্ব
দান করুন। যার থেকে অন্যথা পরিত্রাণের কোন পথ নেই!

-রিবাতি মুহাম্মদ (শুক্রবার প্রভাত)

Dowload Gazwatul Hind by Ribati Google Drive

Dowload Gazwatul Hind by Ribati MediaFire

Leave a Reply