নজরুল জীবনে নার্গিস PDF Download

0
66
nazrul-jibone-nargish

‘দোলন চাঁপা’ কাব্যের ‘সমর্পণ’ কবিতায় কবি প্রিয়তমার নিকট নিজেকে এভাবে সমর্পণ করেছিলেন : প্রিয়! ‘এবার আমায় সঁপে দিলাম তোমার চরণ-তলে। তুমি শুধু মুখ তুলে চাও, বলুক যে যা বলে।’ সৈয়দার (নার্গিস) পিতা পূর্বেই ইন্তেকাল করেছিলেন। পিতৃহীন এই মেয়েটিকে মামা অতি আদর-যত্নে গড়ে তুলেন। নজরুলের সাথে ভাগ্নিকে বিয়ে দিতে তারা প্রথমে রাজি ছিলেন না। পরবর্তীতে নজরুলের জেদ এবং যে কোন মূল্যে সৈয়দাকে পাওয়ার আগ্রহের কারণে নজরুলের সাথে সৈয়দাকে বিয়ে দিতে তারা বাধ্য হন। ১৩২৮ সালের ৩ আষাড় শুক্রবার ১৭ জুন ১৯২১ নজরুল ও নার্গিসের বিয়ের দিন ধার্য করা হয়। সপ্তাহখানিক পূর্বে আলী আকবর খান কুমিল্লায় অবস্থানরত সেন পরিবারকে বিয়ের দাওয়াত কার্ড পৌঁছে দেন। মুজাফফর আহমদ লিখেছেন, সেন পবিরার থেকে মোট ১০ জন নৌপথে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ১। ইন্দ্র কুমার সেন গুপ্ত ২। বিরজা সুন্দরী দেবী ৩। বীরেন্দ্র কুমার সেন গুপ্ত ৪। গিরিবালা দেবী ৫। কুমারী আশালতা সেন গুপ্তা ৬। কুমারী অঞ্জলি সেন গুপ্তা ৭। কুমারী কমলা সেন গুপ্তা ৮। কমলিনী সেন গুপ্তা ৯। প্রবীর কুমার সেন গুপ্ত ১০। শ্রী সন্তোষ কুমার সেন কুমিল্লা পৌঁছেই সেন পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিয়ে না দেয়ার জন্য মতামত দেয়া হয়। তবু ঠিকঠাকভাবে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়। বিয়ে পড়ান নার্গিসের বড় ভাই মুনশী আবদুল জববার। বিয়ের উকিল হয়েছিলেন নার্গিসের বড় মামা আলতাফ আলী খান, বরের পক্ষে সাক্ষী ছিলেন সাদত আলী মাস্টার এবং কনের পক্ষে সাক্ষী ছিলেন সৈয়দ আলী মাস্টার। বিয়ের দেনমোহর ধার্য করা হয় ২৫ হাজার টাকা। বিয়ে প্রসঙ্গে নজরুলের বিয়ের সাক্ষী ওয়াজেদ আলী বলেন : আমার চাচাতো বোন নার্গিসকে দেখে নজরুল মুগ্ধ হয়ে যান। খুব ধুমধাম করে তাদের বিয়ে দেয়া হয়। বিয়েতে রামচন্দ্রপুরের তুফানী বাদ্যদল এলো। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এলো শাহাবুদ্দিনের দল। কুমিল্লা থেকে এলো প্রমীলা আর বিরজা সুন্দরীরা। বিয়ের পর কলকাতা গিয়ে সংসার করার মতো আর্থিক সঙ্গতি নেই বলে কবিকে কুমিল্লা রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু প্রমীলার মা গিরিবালা দেবী এবং চাচী বিরজা সুন্দরী দেবী কবিকে এই বলে বোঝাতে থাকেন যে তাঁকে তারা ঘরজামাই করে রাখবে এবং তাদের ইচ্ছায় তাকে চলতে হবে। সেন পরিবারের পরামর্শে কবি বিয়ের পরদিন সকালে সকলের অনুরোধ উপেক্ষা করে চিরদিনের জন্য দৌলতপুর থেকে চলে যান। এ প্রসঙ্গে নার্গিসের বক্তব্য : ‘গিরিবালা দেবী ও বিরজা সুন্দরী দেবী ওকে (নজরুলকে) বোঝাতে লাগলো যে মামার উদ্দেশ্য খারাপ। বিয়ে করলেই আটকা পড়বে। বিয়ে হলো। বাসর হলো। ও আমাকে বাসররাতে তার সঙ্গী হয়ে দৌলতপুর ত্যাগ করতে বললো। কত মিনতি করলাম। তবু ভুল বুঝলো। ছুটে গেল বিরজা সুন্দরী দেবীদের পরামর্শের জন্য। অনেকটা স্বাভাবিক হয়েই সকালে নাস্তা-টাস্তা করে বীরেন্দ্র কুমার সেন গুপ্তের সঙ্গে কুমিল্লা রওয়ানা হলো। বললো, দেশের বাড়িতে যাবো, আত্মীয়-স্বজন এসে আমাকে শ্রাবণ মাসে নিজ বাড়িতে নেবে।’ সূত্র : বুলবুল ইসলাম, অন্তরঙ্গ আলোকে কবি-প্রিয়, সংগ্রাম ৩০ মে, ১৯৮৮)।

নজরুল জীবনে নার্গিস PDF Download

Download

If you are having any issue with নজরুল জীবনে নার্গিস download, or নজরুল জীবনে নার্গিস download link is broken please leave a comment below.

Leave a Reply