সত্য কথন (Sottokothon) PDF Download

0
511
সত্য কথন

সত্য কথন এর  লেখক- আরিফ আজাদ, আসিফ আদনান, আশিক রহমান নিলয়, জাকারিয়া মাসুদ, মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান মিনার, মুহাম্মদ শাকিল হোসাইন, মুহাম্মদ তোয়াহা আকবর, শিহাব আহমেদ তুহিন, তানভীর আহমেদ।
প্রকাশক- সীরাত পাবলিকেশন

Download
————————————————————-

সত্য কথন বুক রিভিউঃ

“সত্য কথন” এর এত্তগুলো রিভিউ দেখার পর বইটি আর না পড়ে থাকতে পারলাম না। অতঃপর বই সংগ্রহ, বই পড়া,এবং তারপর আবার রিভিউ লিখতে বসে যাওয়া।

বইটির প্রচ্ছদ দেখলাম বিষয়বস্তুর সাথে খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রচ্ছদে দেখা যাচ্ছে একটি কালো কাগজ কিছুটা উল্টানো, তার নিচে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে সাদা কাগজটি, যার উপর লেখা ‘সত্য কথন’।বুঝলাম, মিথ্যার অন্ধকার চাদরটি সরালে সত্য আপনাআপনিই বেরিয়ে আসে।

সত্য আসলে কি? “যেটা যেরকম, সেটাকে ঠিক সেইভাবেই বলা”, সেটাই সত্য। সত্য কখনোই কোন আপেক্ষিক বিষয় না, বরং আশেপাশে যা কিছুই হয়ে যাক না কেন, সত্য সবসময় সত্যের জায়গাটাতে অটল দাঁড়িয়ে থাকে। সত্য তো সবসময় আপনাআপনিই দৃশ্যমান, তাহলে আবার সত্যকে বই লিখে জানানোর দরকার হলো কেন? এর উত্তর, সত্য সম্পর্কে একশ্রেনীর মানুষের মিথ্যা অপপ্রচার।

হ্যাঁ, ইসলামবিদ্বেষীদের আসল চেহারার সাথে এদেশের মানুষের প্রথম পরিচয় ২০১৩ সালে, শাহবাগের গণজাগরন মঞ্চে। একশ্রনীর মানুষ ইসলাম সম্পর্কে কুৎসা, অপবাদ, মিথ্যাচার রটিয়ে গেছে বছরের পর বছর যাবৎ। এবং এ শ্রেনীটাই বর্তমানে ধর্মনিরপেক্ষ, মুক্তমনা,প্রগতিশীল নাম ধারণ করে যথেচ্ছ অপপ্রচার চালিয়ে যেতে পারছে, তার কারন আমাদের মুসলিমদের মধ্যে বিদ্যমান মানসিক দুর্বলতা। তথাকথিত মুক্তমনাদের মুখোশ উন্মোচন করতে, এবং তাদের কুযুক্তিগুলোর উত্তর দিতেই সত্যকথন এর জন্ম। সত্যকথন প্রথমে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরে বই হিসেবে পূর্ণতা পায়।

এ বইয়ের লেখক একজন না। অনেকজন। তাই প্রত্যেকটি লেখাই আলাদা। বৈচিত্রময়।

সত্য কথন

বইয়ের শুরু মুহাম্মদ তোয়াহা আকবরের “অন্যরকম পরশ পাথরের গল্প” দিয়ে।যেকোন পেশার লোক, যদি নিজের উপর নিরপেক্ষ থাকে, তাহলে সহজেই সত্যটাকে খুঁজে পেতে পারে। লেখক ছিলেন বইপড়ুয়া,তিনি নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করে সত্যটা বুঝতে পেরেছেন। লেখকের অন্ধকার থেকে আলোতে আসার গল্প এটি।

বইটির শেষ নাস্তিকদের এককালের গুরু আ্যান্টনি ফ্লিউ এর আস্তিক গল্প দিয়ে।পুরো ৫০ বছর যাবৎ তিনি ছিলেন নাস্তিকতার একনিষ্ঠ প্রচারক ; একাডেমিক নাস্তিকতার জনক। সেই ফ্লিউ যখন বুঝতে পারলেন স্রষ্টা আছেন, তখন তিনি ঠিকই সত্যকে মেনে নিয়ে আস্তিক হয়ে গেলেন এবং সেই অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করলেন। বর্তমানকালের নাস্তিকরাও যদি ফ্লিউ এর মত উদার হয়, তবে তারাও আস্তিকতার দিকে ফিরে আসতে পারে।

এ বইয়ে আরও আছে গ্রীক পুরানের সেই ইডিপাসের কথা; যে নিজের বাবাকে হত্যা এবং নিজের মাকে বিয়ে করেছিল। আরও আছে পদার্থবিদ জন ভন নিউম্যানের কথা, যিনি মৃত্যুর আগমুহূর্তে বলেছিলেন – “Pascal had a point”. সারাজীবন নাস্তিকতায় ডুবে থেকে মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে আস্তিক হলেন! বিখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ কে একলোক প্রশ্ন করেছিল- “আপনি যে এত ধর্মকর্ম করেন, যদি মৃত্যুর পর দেখতে পান স্রষ্টা বলে কেউ নেই, তখন কেমন হবে?” পাঠক! কি ভাবছেন? কি বলেছিলেন তখন এ বুদ্ধিমান মানুষটি! তিনি বলেছিলেন – “মৃত্যুর পরে তুমি যদি দেখ যে,স্রষ্টা বলে কেউ আছেন, তখন তোমার যে পরিমাণ ক্ষতি হবে, তার তুলনায় আমার এখনকার ক্ষতি কিছুই না!”

নবীজি (সঃ) এর সাথে আয়েশা (রাঃ) এর বিয়ে নিয়ে যারা জলঘোলা করেছে, তাদের উদ্দেশ্যে লেখক বলেছেন- “If A’isha was happy and satisfied about her marriage, who are you to point your finger at her marriage?”
এছাড়া নবীজির সাথে জয়নব বিনতে জাহাশ (রাঃ) এর বিয়ে নিয়ে যারা অনর্থক প্রশ্ন তোলে,তাদের সমুচিত জবাব দেয়া হয়েছে “যে বিয়ে আকাশে হয়েছিলো” লেখাটিতে।

কুরআন আমাদেরকে জানাচ্ছে-“সত্য এসে গেছে এবং মিথ্যা অপসৃত হয়েছে, আর মিথ্যা তো অপসৃত হওয়ারই ছিল”।
– আল কুরআন ১৭:৮১
আল্লাহ আমাদেরকে সত্যটা জানার ও মানার তৌফিক দিন। লেখকদের সাথে এই রিভিউ লেখিকাকেও আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন।

if সত্যকথন (Sottokothon) Link Broken Please Comment Below.

Leave a Reply