দুর্বৃত্ত ও বাজি pdf (ওয়েস্টার্ন সিরিজ)

0
334

বাজি
প্রথম প্রকাশ: ১৯৮৯ এক চোখে-মুখে রোদ লাগতেই ঘুম ভেঙে গেল নিজের। চোখ দুটো কিছুক্ষণ পিটপিট করল ও, আড়মােড়া ভেঙে হাই তুলল। কী যেন ভাবল, সে, তারপর উঠে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল কাছের ওয়াটার হােলটার দিকে। শরীরটা ওর ভীষণ দুর্বল মনে হচ্ছে। পানি খেল আঁজলা ভরে। খালি পেটে খুব এক সুবিধে হলাে না। এবার আগের জায়গায় ফিরে এসে সিগারেট বানাবার মাল-মশলা হাতে তুলে নিল ও। শেষ হয়ে এসেছে। একটা সিগারেট বানিয়ে ধরাল। উঠতে যাবে এমন সময় দৃশ্য চোখে পড়ল ওর। সাথে সাথে আবার বসে পড়ল রাজ। আচমকা একটা স্নিগ্ধ বাতাস বয়ে গেল ওর সারা দেহ-মন জুড়ে। সত্তর-আশি গজ দূরের ঘােড়াগুলােকে দেখে ওর দম যেন আটকে গেছে। ‘আমার মুক্তির দূত হয়ে এসেছে এগুলো, বিড়বিড় করে বলল রে। চুপচাপ সিগারেট ফুঁকতে লাগল ও। যেন সুস্বাদু কিছু খাচ্ছে। পেটের খিদেটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। এত দুঃখের মাঝেও হাসি পেল তার। সামনের শহরটা আর কদূর? সিগারেটটা শেষ হতে হতে একসময় আঙুল স্পর্শ করল। চমকে উঠল সে। তারপর মাটিতে ফেলে বুটের ডগা দিয়ে সযত্নে পিষে ফেলল ওটা। চারদিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিলাে রীজ। শুধু ঘাস আর ঘাস। মানুষের সামান্যতম অসতর্কতাই এখানে মুহুর্তের মধ্যে দাবানলের সৃষ্টি করতে পারে। আবার ঘোড়ার পায়ের দিকে তাকাল রিজ। এগুলো এখন একটু দূরে সরে গেছে। ঐ কুঁচকে একটু চিন্তা করল ও। তারপর জিন থেকে ল্যারিয়েটটা বের করে নিল। কয়েকবার দক্ষহাতে দড়ির ফাসটি ঘােরাল ও। ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল ঘোড়া গুলোর দিকে। | দল বেঁধে প্রায় সত্তর-আশি টি ঘোড়া আছে পেয়ালা আকৃতি একটা ঘেসো জমিতে। দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এগােল রীজ যাতে ও কাছে যাওয়ার সময় সূর্যের আলাে সরাসরি ওগুলাের চোখে পড়ে। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে মৃদু বাতাস ছুটে এল। সুবিধাজনক একটা অবস্থানে পৌঁছাতে প্রায় ঘণ্টাখানেক লাগলো ওর। তারপর একসময় ঘােড়াগুলাে ধীরে ধীরে সরে আসতে লাগল ওর দিকে। এতক্ষণে ওগুলাের মার্কা পরিষ্কার দেখতে পেল ও-অ্যারাে, দুটো তীর পয়তাল্লিশ ডিগ্রী কোণ করে উর্ধ্বমুখী হয়ে পরস্পরকে ছেদ করছে। ঘােড়াগুলাে আরও কাছে সরে এল। এখনি, নিজেকে বলল রীজ; তারপর দক্ষহাতে ফাসটি সামনের দিকে ছুঁড়ে মারল। এবার ঘােড়াগুলাে যেন সচেতন হলাে ওর উপস্থিতি সম্বন্ধে। মুহুর্তে দিশা হারিয়ে দৌড় দিল ওরা। কিন্তু ফাসটি ততক্ষণে একটা নীল রৌনের গলায় গিয়ে আটকেছে। সাথে সাথে পেছনের পায়ে। সােজা হয়ে গেল ঘােড়াটা,তীক্ষ্ণ হেষাধ্বনি করল। প্রাণপণে দড়িটি আঁকড়ে ধরল রীজ। একসময় ঘামতে শুরু করল ঘােড়াটা, হাঁপাতে লাগল।

বাজি

দুর্বৃত্ত

প্রথম প্রকাশ: ১৯৮৭ এক “তা হলে একজন মার্শাল চাই এই রেইনবাে শহরে? তামাকের মােড়কগুলাে তুলে নিয়ে পকেটে ঢোকাতে ঢোকাতে চিন্তামগ্ন ভাবে বলল দীর্ঘদেহী আগন্তুক। | কাউন্টারের পেছনে দাড়ানাে মেয়েটা ওপর-নীচ মাথা নাড়ল। তবে এই মিটিংয়ের কী দরকার ছিল জানি না। এবার চাকরিটা চাইতে এসেছে এ-পর্যন্ত মাত্র একজনই।’ | কাজটা লােকের কাছে তেমন লােভনীয় নয় মনে হচ্ছে? আগন্তুক একখানা নেট বের করে মেয়েটির সামনে রাখল। তা ঠিক,’ বলল মেয়েটা। আমাদের মার্শাল এর কপাল মন্দ বলতে হবে-এক বছরেরও কম সময়ের ভেতর দু’দু’জন মারা পড়েছে।’ ভুরু কুঁচকে উঠল আগন্তুকের ‘জঞ্জালভর্তি শহর নিশ্চয়,’ মন্তব্য করল সে । জোচ্চোর, বাটপাড়, বদমাশ গিজগিজ করছে-তাই না?’ ‘শহরের লােকজন খুব খারাপ নয়-দু’চারজন ছাড়া, মেয়েটা প্রতিবাদ করল । বাইরের ভবঘুরের দল এসেই যত গণ্ডগােল পাকায়। চশমার পেছনে অচেনা লােকটার চোখে কৌতুকের ঝিলিক লক্ষ্য করে লাল হয়ে উঠল তরুণী, তাড়াতাড়ি যােগ করল, তাই বলে ভাববেন না, আমি আপনাকে—’। “ঠিক আছে, ঠিক আছে,’ মুচকি হেসে হাত তুলে মেয়েটাকে থামিয়ে দিল আগন্তুক। মিটিং কোথায় হচ্ছে বললে?’। সানশাইন সেলুনের। সেলুনের মালিক পিটার প্রেসকট বলতে গেলে চালায়। এ-শহর-বেশির ভাগ লােকই তার কথা মেনে চলে।’ একটু থেমে লােকটার মুখের দিকে তাকিয়ে তরুণী ধীরে ধীরে বলল, আপনি কি…মার্শাল পদের জন্যে…’ | ‘ক্ষতি কী,’ অম্লান মুখে জবাব দিল আগন্তুক, কাজকর্ম নেই হাতে, উপার্জন নেই; আমাকে তার খেতে-পরতে হয়।’ মেয়েটা চুপ করে রইল। ফেরত পাওয়া খুচরাে পয়সাগুলাে তার দিকে ঠেলে দিল আগন্তুক, তোমার।’ মুচকি হেসে বেরিয়ে গেল দোকান থেকে । খোলা দরজা দিয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তরুণী। কোন কাউপাঞ্চার হবে হয়তো-ভাবছো মনে মনে-কাজ খুঁজতে বেরিয়েছে। ‘চাকরিটা না হয় যেন,’ অস্ফুট স্বরে বলল সে, হলে রাখতে পারবে না।

সেলুনের সামনে ঘোড়া থেকে নেমে পড়ল আগম্ভক। বেশ বড়সড় মজবুত কাঠামো সানশাইন সেলুনের। সামনের উঁচু ঢাকা বারান্দা। সেখানে একটা গান টেবিল ঘিরে পাঁচজন লােক বসে আছে। টেবিলের ওপর বােতল আর কয়েকটা

ওয়েস্টার্ন
দুর্বৃত্ত ও বাজি
আসাদুজ্জামান ও বজলুর রহমান

দুর্বৃত্ত/ আসাদুজ্জামান
রেইনবো শহরের এক সঙ্কট-মুহূর্তে তাঁর অপ্রত্যাশিত আবির্ভাব। ব্রায়ান জোনস-অসাধারন বুদ্ধিধর, স্থিরমস্তিষ্ক এক দুর্ধর্ষ পুরুষ। শহরের নতুন মার্শাল হিসাবে সে পেল কিছু অন্তরঙ্গ মিত্র, কিছু ভয়াল শত্রু। স্নিগ্ধশ্রী তরুনী ইভলিন রয়েসের অতীত বঞ্চনার আশ্চর্য কাহিনী যখন মার্শালের মনে অদম্য কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে, তখন তাঁর দিকে গুরি মেরে এগিয়ে আসছে করাল মৃত্যু। সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয় ম্যাট লোগান-বিষধর গিরগিটির চেয়েও ভয়াবহ সে।

বাজি/বজলুর রহমান
ভবঘুরে মাইকেল রীজ, অ্যারো র‍্যাঞ্চের একটা ঘোড়া ধার করতে গিয়ে পড়ল বিপদে। বেধড়ক চাবুকপেটা করা হলো ওকে। প্রতিশোধের আগুন জ্বলে উঠল ওর মাঝে, মাইকেল হাত মেলাল অ্যারোর শত্রু নিক ভিক্টরের সঙ্গে কিন্তু কিন্তু অচিরেই বুঝতে পারল ভিক্টর দাবার ঘুটি হিসেবে ব্যবহার করছে ওকে-কাজ শেষ হয়ে গেলে ছোবড়ার মত ছুঁড়ে ফেলে দেবে। জীবন-বাজি সংগ্রামে নামল রীজ।

Download

Leave a Reply